খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন
খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস- ১৪ই ডিসেম্বর’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ পরিচালক (ক. প. দপ্তর) আসমা খাতুন। বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলার মানুষের হৃদয়ের গভীর ক্ষতের নাম বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। যারা এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল, আমরা তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি।” আলোচনা সভায় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আলিফা জাহান । তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা আজও প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৪৯ জন চিকিৎসক শহীদ হন, যাঁদের শূন্যস্থান আজও পূরণ হয়নি।” এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পর বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আবু নাসের ফারুক। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ১৯৭১ সালের শেষ দিকে একটি নীলনকশার মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করা হয়, যেন বাংলাদেশ কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। শহীদ চিকিৎসক ডা. আলিম চৌধুরীর চোখ উপড়ে ফেলা হয়, শহীদ ডাক্তার ফজলে রাব্বির হৃৎপিণ্ড ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের মৃত দেহকে ক্ষতবিক্ষত করে অসম্মানিত করে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে ফেলে রাখা হয়। মৃত্যুর পূর্বে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় আমাদের শহীদ চিকিৎসকদের ওপর,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,কবি,সাহিত্যিকদের ওপর।” তিনি সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তিনি বলেন,সুপরিকল্পিতভাবে তালিকা তৈরি করে চোখ বেঁধে জাতির মেধাবী সন্তানদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। মানবিকতা ও বিবেক দিয়ে বিচার করলে বোঝা যায় যে, আমাদের কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয়। আমাদের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।” তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। আলোচনা সভা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । দোয়া পরিচালনা করেন জনাব মোঃ নুরুল মোমেন, পিএস টু ভিসি (সহঃ রেজিস্ট্রার) ।
Event Gallery