খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই শহিদদের স্মরণে “স্মরণ সভা” সভা অনুষ্ঠিত
আজ ০৬ আগষ্ট ২০২৬ইং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই শহিদ স্মরণে “স্মরণ সভা” অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা, রেজিস্ট্রার জনাব এস এম আবু নাসের ফারুক, অধ্যাপক ডা. মেহেরুন নেসা, ভাইস-প্রিন্সিপাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ, ঢাকা সহ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, অধিভূক্ত মেডিকেল ও নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষগণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, জুলাই আত্নতৃপ্তি নয় বরং অনুভব ও উপলব্ধির বিষয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। শহিদদের আত্মত্যাগ জাতিকে ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন বর্তমানে দেশের বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সে ষড়যন্ত্র আমাদের রুখে দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ইতিহাস যথাযথভাবে জানতে হবে এবং শহিদদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনের স্মৃতিচারণ করেন। খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মোঃ রফিকুল হক বাবলু বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবের বিরোধীতা করেছিল তারাও আজ বিপ্লবের পক্ষ হয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে সে সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে উপাচার্য মহোদয়ের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় চেতনাকে সমুন্নত রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন দুটি জিনিস বাস্তবায়ন করতে পারলে জুলাই শহিদদের আত্নত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে, তা হলো ব্যক্তির থেকে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। রেজিস্ট্রার এস. এম. আবু নাসের ফারুক তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠনে প্রত্যেক নাগরিককে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি শহিদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শহীদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন। অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম, ডিন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদ ও অধ্যক্ষ, খুলনা মেডিকেল কলেজ জুলাই আন্দোলনের সময় তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহিদদের আত্নত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি যে যার অবস্থান থেকে নিজের কাজে সততা ও দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তা আমরা ধরে রাখবো। তিনি শহিদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন। ডা. এস এম আকরামুজ্জামান, ডিন, সার্জারি অনুষদ ও খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি কিভাবে গণঅভ্যুত্থানে রুপ নিলো তা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক। জুলাইয়ের চেতনা ও ঐক্যে কেউ আঘাত হানার চেষ্টা করলে সবাই মিলে প্রতিহত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন এই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। অধ্যাপক ডা. গোলাম মাসুদ, ডিন, মেডিসিন অনুষদ-শহিদদের স্মরণ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং শহিদ পরিবারদের খোজখবর নেয়া এবং আহতদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহবান জানান। অধ্যক্ষ, মমতা নার্সিং কলেজ, খুলনা, আসমাতুন্নেছা বলেন, জুলাই থেকে সকলের দেশপ্রেমের শিক্ষা গ্রহন করা উচিত। সহকারী পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন তার বক্তব্যে বলেন রাষ্ট্রীয়ভাবে এতো নিরীহ ছাত্র জনতা হত্যা করা কোনো সভ্য দেশে হতে পারেনা। তিনি আন্দোলনে শহিদদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করেন। পিএস টু ভিসি (সহকারী রেজিস্ট্রার) বলেন, জুলাইয়ের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। স্মরণ সভায় জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের অনুরোধে ভিসি স্যারের আন্দোলনে অংশগ্রহনের ভিডিওচিত্র প্রদশিত হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিশেষে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম, ডিন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদ ও অধ্যক্ষ, খুলনা মেডিকেল কলেজ।
Event Gallery